শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
Dating App

——- ১৪ ফেব্রুয়ারী ——

ডা.উজ্জ্বল কুমার রায় »

নবেল যুদ্ধ বিষয়ে পারদর্শী। যুদ্ধের প্রয়েজনীয়তা,উপযোগীতা নিয়ে সে টানা ঘন্টার পর ঘন্টা লেকচার দিতে পারে। পএিকা গুলিতে মাঝে মধ্যেই তাঁর ফিচার বেরোয়। আসলে নবেল বোঝে,পাবলিক মাইন্ড টাচ করতে গেলে মার্কেটিং জানতে হশ।যুদ্ধের খারাপ ভালো নয়,যুদ্ধের ভড়ংবাজিটাই ম্যাজিকের মতো পাবলিককে ধাঁধা লাগিয়ে দেবে। পাবলিক খাবে চেটেপুটে। বদহজম হলেও..!
নবেল খুব স্মার্ট, বুদ্ধিমান, চতুর এবং ভোকাল। ইদানীং তার দক্ষিণ দিকের জানালা খুলে গিয়েছে। বুকের পাঁজরে বইছে প্রেমের উষ্ণ বাতাস।নবেল ভাসছে কাগজের নৌকার মতো।উন্নয়নের আশা আছে,ভাবনাও আছে,এগোবার মুরোদ নেই।যদি পাছে উল্টো রেজাল্ট হয়।
আজ বিকেলে বিখ্যাত এক দৈনিকের সেমিনারে নবেলের বির্তকের বিষয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বসমীহ অর্জন ‘।নবেল জানে কয়েকটা পয়েন্টই এ বিষয়ে যথেষ্ট। সে জানে যে বিষয়ে পৃথিবীর আমেরিকাকে ঘৃণা করার কথা তা তো হয়নি,বরং সারা বিশ্বই আমেরিকাকে মনে করছে এক স্বর্গের দেশ।নবেল তার্কিক।সে জানে পয়েন্ট গুলোকে কীভাবে যুদ্ধের গানে মুড়ে ফেলতে হবে।মুশকিলটা হল, আজ এখানেই বিরুদ্ধ বক্তা চৈতী বিশ্বাস। ইতিহাসে ডক্টরেট, পোলিশড়,সেল্ফ ডিটারমিনড এবং অলওয়েজ স্মাইলি। মানুষ হিসাবেও সে বেশ ফ্রেন্ডলি। কথা বলে অমায়িকতার সাথে। কিন্ত বিতর্কের সময় ভীষণ অথেনটিক। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও বিদেশনীতির ব্যাপারে চৈতি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তাঁর চোখে আমেরিকা প্রকৃতি হন্তারক, ওয়ারমোংগার।
হলে ঢুকতে গিয়েই নবেল দেখতে পান চৈতিকে। কথা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস গবেষক মি. আকাশ আনোয়ারের সঙ্গে। স্যারকে দেখেই নবেল এগিয়ে যান।
—- গুড আফটারনুন স্যার।
—- ইয়েস মাই বয়।আজ এসেছি তোমাদের যুদ্ধ দেখতে।
—– আই এম অলওয়েজ ইন ফেভার অফ ওয়ার।
এই সময়েই চৈতী বলে ওঠে।
—- এক্সকিউজ মি প্লিজ।ইউ বিলিভ ইন ডেসট্রয়িং। আপনার বিশ্বাসে রক্ত লেগে আছে।
—- মাই ডিয়ার লেডি, যুদ্ধ আফটার অল যুদ্ধ।
—– নো স্যার,আই বিলিভ ইন কন্ট্রাডিকসান ব্রিংস কনফ্রনটেনশন আর এ্যান্ড এট লাস্ট ওয়ার এপিয়ারস দেয়ার।দু’পক্ষকেই শেষ পর্যন্ত থামান অধ্যাপক। বলেন,এখন থামো।আই উইল এনজয় ইওর ফাইট অন ডায়াস।
অসাধারণ বাগ্নীতার সাথে কথা বলতে শুরু করেন নবেল।অনেকটা ক্রিকেটীয় ভাষায় একটু টুকেই, পরে সমস্ত বল আকাশে। ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিতে চাইল,হিরোশিমা নাগাসাকি আক্রমণের তাত্বিক কারণ। বোঝাতে চাইল,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম থেকেই আমেরিকা লিস্ট ইন্টারেস্টেড ছিল।এমনকি, সে পার্ল হার্বারের আক্রমণের কথাও তুলে আনে।
সাথে সাথে যুদ্ধের কারণ ও ভবিষ্যতকেও তুলে আনে।এক অবশ্যম্ভাবী রুপ হিসাবে। আমেরিকাকে ওয়ারমোংগার বলতে সে রাজি নন,বরং সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে দরজা খুলে দেওয়া এক প্রগতিশীল মননরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনীয় বলে সে অভিহিত করে।
চৈতী বিশ্বাসও একের পর এক নানা বিশ্লেষণে উপবিষ্ট সকলের কাছে বর্ণনা করেছেন আমেরিকার হনননীতি। সমগ্র পৃথিবীর পৃথিবীর উপর আগ্রাসন, সমস্ত বাজার দখলের জন্য অনৈতিক ও অসাধু মানসিকতা।রাষ্ট্রসংঘের নিয়মের তোয়াক্কা না করা এমনকি বিগত ইতিহাসের হিরোশিমা নাগাসাকি ধবংসের মতো পাশব ঘটনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।শেষ করেন সোভিয়েত – কে টুকরো করে ফেলার ষড়যন্ত্র দিয়ে। বির্তক শেষ হতেই চৈতীকে ঘিরে ধরলো প্রেস মিডিয়া।ক্যামেরার ঝলক বারবার উদ্ভাসিত করছে তার মুখ। নবেল বুঝতে পারে তার টিআরপি এখন নিন্মমুখী।নবেল এগোতে থাকে কার পার্কিংয়ের দিকে।টিএসসি থেকে এগিয়ে ক্রসিংয়ে এসেই বাঁদিকে বাক নিল নবেল।একটা কফিশপে ঢোকার ইচ্ছে হল তার। কোথাও একটা সাইকোলজি লো ফিলিংস সে টের পাচ্ছে। একটা কফিশপ পেয়েই সে গাড়ি সাইড করল।
মোবাইলটা ভাইব্রেট করে উঠতেই, নবেল ফোনটা হাতে তুলে নিল। পাঁচটা কল। সবই চৈতীর। ইচ্ছে হচ্ছিল না ফোনটা ধরার ; তবু্ও ডেকোরাম।
—- ইয়েস, নবেল স্পিকিং
—- সিন্স আ লং টাইম আই এম কলিং ইউ। ইউ ওয়্যার মারভেলাস, সুপার্ব টুডে।নবেলের কানটা ভারী লাগলো।চৈতী বাহবা দিচ্ছে, নাকি শুধুই ফর্মালিটি।।
—- চৈতী, আই এম সরি।আই শুড হ্যাভ টোল্ড ইউ আরলিয়ার। ইউ নো,ইউ ওয়্যার ইনকম্পারেবল টুডে।
—- রিয়েলি স্যার!
—- ওহ ডোন্ট সে স্যার,সে নবেল। আফটার অল উই আর ফ্রেন্ডস।
— ইয়েস এ্যান্ড ফো অলসো।
— নো চৈতী, ইউ নেভার বি এ ফো।ইউ অলওয়েজ ফেভার পিস। ইউ আর অা গ্যালান্ট লেডি।
দু’পক্ষই কিছুক্ষণ চুপচাপ। ফোনে দু’ জনেরই কানে, কেউ সরাচ্ছে না।চৈতীই বাঁধ ভাঙল
—- নবেল, হোয়ার ইউ নাউ?
—- হোয়াই, আই এম অন দ্যা ওয়ে।
—- নো,টেল মি,হোয়ার ইউ নাউ,প্লিজ?
—- শেষের প্লিজ শব্দে স্ট্রেস ছিল,ঝাঁজ ছিল।নবেল সত্যিটা বললো।
—- ওকে, স্টে দেয়ার। আই এম কামিং। আই ওয়ানা সেলিব্রেট দ্য ডে উইথ ইউ।ফোনটা কেটে গেল।গাড়ির ডোরটা খুলতে যেতেই নবেল দেখল একটি ছোট মেয়ে ফুলের তোড়া হাতে।
—- বাবু,নেবেন ভ্যালেন্টাইন ফুল? নবেল তোড়াটা হাতে নিল।পার্স থেকে টাকা বের করে দিল মেয়েটাকে। হাতের ঘড়িতে ডেট দেখল। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি।
নবেলের সারা শরীরে এখন ফুলের গন্ধ।
লেখকঃ- প্রধান সম্পাদক
দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ ও
প্রধান নির্বাহী
কোয়ালিটি টিভি বাংলা।

শেয়ার করুন »

ডা.উজ্জ্বল কুমার রায় »

মন্তব্য করুন »