শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
Dating App

মনের ঘৃণা-কপটতা সরিয়ে আমাদের কোরবানি হয়ে উঠুক অর্থবহ!

অনলাইন ডেস্ক »

ছোটবেলায় কোরবানি নিয়ে খুব উত্তেজিত থাকতাম। গরু কেনাও হতো ৫-৭ দিন আগে। নিজেদের লালন-পালন করে কোরবানি দেবার সুযোগ যেহেতু শহুরে জীবনে কখনোই ছিল না, তাই কয়েকদিন আগে কিনেই একটু লালন-পালনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা আর কি! মহান রাব্বুল আলামিন নিশ্চয়ই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন তার বান্দার এই অপারগতাকে!

ছোট থেকে যখন একটু বড় হয়ে উঠতে থাকলাম তখন থেকে কোরবানির সময় চোখ আচমকাই জলে ভাসতে শুরু করলো! প্রতিদিন মুরগি, মাছ সবকিছু খেতে গিয়ে বেদনাবোধ জাগ্রত না হলেও কোরবানির প্রাণীর প্রতি কোনো এক অমোঘ টান চলেই আসে, কেন আসে জানি না!

ছোটবেলায় বাবার পাশে দাঁড়িয়ে কোরবানি দেখতাম। পরিণত হওয়ার পর চোখ ফিরিয়ে নিতাম, কোরবানির প্রাণীর নিষ্পাপ চাহনি হৃদয়কে বারবার আহত করতো! সময়ের পরিক্রমায় বাবার জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে আর আমার জায়গায় আমার সন্তান। গরু দেখতে গিয়ে আমার বেদনাবোধ আমার সন্তানকে ছুঁয়ে গেছে কিনা আমি জানি না! আমি চাই এই বেদনা ছুঁয়ে যাক। অল্প সময়ে লালন-পালন করে যে মায়া আমার হৃদয়ে ভর করতো সেই একই মায়া ও ভালবাসা আমার সন্তানকেও ছুঁয়ে যাক সেটাই আমি চাই! কোরবানি দেখে আমার চোখে যে অশ্রুধারা বয়ে যায়, আমি চাই সেই একই ধারা আমার সন্তানদের চোখেও বয়ে যাক!
মায়া, ভালবাসা, কষ্ট ও আবেগ না থাকলে মানুষ আবার মানুষ হয় নাকি! হৃদয়ের গভীরে লালিত এই কষ্টই না একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ করে তোলে! সময়ের ক্ষুদ্রতা থেকে শুরু হওয়া চোখের জল যখন এখনো চোখ জুড়ে নামে তখন মনে হয় কোরবানির মাহাত্ম্য হৃদয় থেকে এখনো হয়তো উবে যায়নি! মনের ঘৃণা-কপটতা সরিয়ে আমাদের কোরবানি হয়ে উঠুক অর্থবহ!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক : এডিসি মিডিয়া অ্যান্ড পিআর।

শেয়ার করুন »

অনলাইন ডেস্ক »

মন্তব্য করুন »