শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
Dating App

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সম্প্রীতি সংলাপ:এবারের আলেখ্য বিশ্বজুড়ে একুশে

নিজেস্ব প্রতিবেদক: »

বাংলা, বাঙালি আর ভাষা আন্দোলনের চেতনায় ভাস্বর প্রতিটি মানুষের কাছে সম্প্রীতির আলেখ্য পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনেরা। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্বজুড়ে একুশে’ আলেখ্য অনুষ্ঠানে উঠে আসে দেশ-বিদেশের চলমান বাঙালিসংস্কতি ও ভাষাচেতনার নানা প্রসঙ্গ। দুর্বার বাঙালির ভাষাসংগ্রামের প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী সঙ্কট তুলে ধরেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লন্ডনপ্রবাসী লেখক-গবেষক আবদুল গাফফার চৌধুরী। সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক নাট্যজন পীযুষ বন্দোপাধ্যায় বরাবরের মতো অনলাইন সংলাপ সঞ্চালনা করেন। যেখানে আব্দুল গাফফার চৌধুরী লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে ভাষাসঙ্কট উতরাতে নানামূখি পদক্ষেপও বর্ণনা করেন। দূরদর্শি এই লেখক বিদেশের মিশনগুলোতে বঙ্গবন্ধুচর্চাকেও প্রাধান্য দেন তাঁর বক্তব্যে।
আলোচনায় বাংলা ভাষার অহঙ্কার রক্ষায় গুরুত্ব দেন সবাই। নয়াদিল্লীর সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল বেশ জোর দিয়েই বলেন, বাংলা বাংলাই। নেই কোনো বিকল্প। ছিলনা কোনোকালেই। সংবেদনশীলতা নিয়ে বাংলা ভাগ হয়েছিল। টুইট করলেও তাই বাংলাকে সম্মান দেখাতে হয় বিশ্বচরাচরে। এর ব্যত্যয় ঘটালে তাকে লজ্জিত হতে হয়।
সম্প্রীতির আহ্বায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায় অবশ্য ৫৪তম পর্বের বিশেষ এই আলোচনায় রাষ্ট্রদূতগণ ও বিদেশি মিশনগুলোর ভূমিকাকে সামনে নিয়ে আসেন। মনে করিয়ে দেন, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা, মহাকাশ গবেষণার শহর হিউস্টোনে নিজ জমিতে বাঙালিরা কিভাবে শহীদ মিনার তৈরী করলো সে ঘটনার প্রেক্ষাপট। একই সঙ্গে বিদেশে বাঙালি কমিউনিটির ভেতরে বাংলাচর্চার প্রতিযোগিতা আর ভালোলাগার আধার এবং আধেয় দুটোই তুলে ধরেন কবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও সংগঠক পীযুষ বন্দোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানে প্রণিধানযোগ্য বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে ইউজিসির ভূমিকা ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বঙ্গবন্ধুর অবদানসহ ভাষা ও সংস্কৃতির পাঠ বাধ্যতামূলক করেছিলাম সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেটি এখনও অনবদ্য। অনুষ্ঠানে মিশনগুলোর ভূমিকা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন মাহবুব হাসান সালেহ। যিনি বেলজিয়াম ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বঙ্গবন্ধু কর্ণার প্রসঙ্গে মি. সালেহ তাঁর স্বপ্ন ও পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সিনিয়র সহকারি সম্পাদক আলী হাবিব বাংলা ভাষা রক্ষায় লেখকদের অবদান ও করণীয় তুলে ধরেন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বেলাল হোসেন, রেভারেন্ড মার্টিন অধিকারী কাজল, সাইফ আহমেদ, কানাডার টরোন্টো থেকে নিরঞ্জন রায়, তাপস হালদার, ড. অখিল পোদ্দার প্রমুখ।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। ডা. স্বপ্নীলের সূচনা বক্তব্যে একুশের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির ভূমিকা ও ভবিষ্যত কার্যক্রম তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন »

নিজেস্ব প্রতিবেদক: »

মন্তব্য করুন »