সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ । ৫ আশ্বিন ১৪২৮
Dating App

দলে দলে চট্টগ্রামে ফিরেছেন শ্রমিকরা

আলোচিত বাংলাদেশ ডেস্ক »

গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খোলার ঘোষণার পর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে চট্টগ্রাম নগরে ফিরেছেন শ্রমিকরা। নগরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে বেশিরভাগ শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে ফিরতে দেখা গেছে।

তারা জানিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ ফিরেছেন পার্শ্ববর্তী ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। আবার কেউ কেউ ফিরেছেন সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, হাটহাজারী ও রাউজানসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নগরের প্রবেশ মুখগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় বেশিরভাগ গাড়ি চেকপোস্টের কয়েক কিলোমিটার আগে নামিয়ে দেয়। তার আগে শ্রমিকরা কিছুপথ পায়ে হেঁটে, কিছুপথ সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে এবং কিছুপথ রিকশা কিংবা অন্যান্য ছোটো পরিবহনে যে যার যার মতো করে পাড়ি দেন। মারাত্মক ভোগান্তি মাথায় নিয়ে তারা পুরো সড়কপথ পাড়ি দিয়েছেন বলে জানান।

আবার চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল বেলা চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী উপজেলার শ্রমিকরা এবং দুপুরের পর থেকে পার্শ্ববর্তী জেলার শ্রমিকরা নগরে ফিরেন। পায়ে হেঁটে প্রবেশ করায় শ্রমিকদের কোনো বাঁধা দেয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া কারখানা খোলার ঘোষণায় বাস্তবতার কথা চিন্তা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা শ্রমিকদের বাঁধা দেননি বলে জানিয়েছেন।

সামিহা আক্তার নামে এক নারী পোশাককর্মী বলেন, ‘আমি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। স্যারেরা কারখানা খোলা রাখবেন বলে ঘোষণা দেয়ায় ভোরে ফেণীর ছাগলনাইয়া থেকে রওনা দিয়েছি। এখানে আসতে আসতে আসরের পর হয়ে গেল। বেশিরভাগ পথ অটোরিকশা, কিছুপথ লেগুনা, কিছুপথ ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং কিছুপথ পায়ে হেঁটে এসেছি। এ পথ পাড়ি দিতে ৮৫০ টাকা খরচ হয়েছে। আবার চেকপোস্টের কয়েক কিলোমিটার আগে গাড়িচালকরা আমাদের নামিয়ে দেন। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে আসছি।’

একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওই নারী আরও বলেন, ‘আমাদের মতো অনেক নারী-পুরুষ এভাবে কষ্ট করে ফিরেছেন। হঠাৎ করে কারখানা খোলার ঘোষণা দেয়ায় স্যারেরা তো আমাদের কথা চিন্তা করেনি। তারা তো আমাদের কষ্ট বুঝে না। কারণ তারা প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাতায়াত করতে পারেন। পুরো পথে তেমন কিছু খেতে পারিনি। এখন হাঁটার শক্তিও পাচ্ছি না।’

‘আপনার সঙ্গে এতো কথা বললে হবে। আগামীকাল কাজে যোগ দিতে হবে’, বলেই বিদায় নেন ওই নারী শ্রমিক।

সিটি গেট মোড়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও আকবরশাহ থানার পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) এসএম শওকত বলেন, ‘কারখানা খোলার ঘোষণায় আজকে অনেকেই পায়ে হেঁটে শহরে প্রবেশ করেছেন। তাদের জিজ্ঞেস করলে সামনে বাসা বলে জানায়। এভাবে বললে তো আমাদের করার কিছু থাকে না। তবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গাড়িতে করে কাউকে শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।’

করোনা সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ চলবে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ সব ধরনের শিল্প-কারখানা।

এরইমধ্যে পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের শিল্পকারখানা খুলে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান মালিকরা। গত ২৯ জুলাই সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।

এর পরই শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা আরোপিত বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো।

শেয়ার করুন »

আলোচিত বাংলাদেশ ডেস্ক »

মন্তব্য করুন »