শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
Dating App

একটি চিঠি ও একটি প্রেমের গল্প

আলোচিত বাংলাদেশ ডেস্ক »

দীর্ঘ ঘুমে রাত কেটে সকাল হয় পাখিদের গান শুনে। আরেকটু ঘুমানোর ইচ্ছা করে, তবু অলসতাকে পরাজিত করে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে নির্জর। সকালে উঠেই ঘড়ির কাটার দিকে চোখ বুলিয়ে নেয় সে। সকালের এত ব্যস্ততার পিছনে তার একটাই কারণ সে প্রেমে পড়েছে কারো। নির্জর সম্পর্কে বলতে গেলে সে আপাদমস্তক ভদ্র, চুপচাপ ও শান্তশিষ্ঠ ছেলে।
সে নিজে কখনও ভাবেনি সে কারো প্রেমে পড়তে পারে।
নির্জরের বাড়ির সামনের পথ দিয়েই প্রতিদিন প্রাইভেট পড়তে যায় মেয়েটি। জীবনে প্রথম সে কাউকে দেখে ভালবাসা অনুভব করতে পেরেছিল সে মেয়েটিকে এক পলক দেখেই।
মানুষ প্রেমে পড়ে বিপরীত লিঙ্গের চেহারা দেখে, যোগ্যতা দেখে, স্মার্ট দৃষ্টিভঙ্গি দেখে। কিন্তু নির্জর ভিন্ন ধাতুতে গড়া মানুষ। সে শুধু মেয়েটির চোখ দেখে প্রেমে পড়েছিল। সে শূন্য থেকে মেয়েটির চোখের অথৈ নীল জলে ডুবে যেতে চাইছিল। কারণ মেয়েটির নীল চোখ তার মনে আকাশের নীলের মতোই অসীম প্রেমের বিস্তার ঘটিয়েছিল।
একটি ডাবগাছে হেলান দিয়ে নির্জর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। মেয়েটি একা একা হেঁটে যায়। তার মনে হলো কোনো রাজকুমারী হেঁটে যাচ্ছে। এই হেঁটে যাওয়া যেন মহাকালের প্রতিটি দিনই দেখতে পারি। মনে মনে প্রার্থনা করে নেয় সে। নির্জর কিছু বলতে চাই, মেয়েটিও তা বুঝে। না বুঝলে কি আর মিটিমিটি মুচকি হাসি দেয় এক বছর ধরে!!! পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হাসি হলো প্রিয়জনের মুখের হাসি।
নির্জর মনের কথা কিছু বলতে পারে, এভাবে দেখেই সে কাটিয়ে দিতে চাই অনন্তকাল। তারা দুজন একই স্কুলে পড়ে নির্জর ও অদ্বিতীয়া। অদ্বিতীয়া নামটি নির্জরের দেওয়া, সে বন্ধুদের বলে একজীবনে প্রেম একবারই আসে। তাই সে আমার অদ্বিতীয়া।
হাইস্কুলের দূর্বাঘাসও জানে নির্জরের প্রেম কাহিনী। একতরফা প্রেম কিন্তু নির্জর তাতেও মনে কষ্ট নেয় না।
১৩ ফেব্রুয়ারি ভালবাসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তার অদ্বিতীয়া। বলে দিয়েছে একশ বছর অপেক্ষায় থাকলেও প্রেম করবে না সে। নির্জর ভেঙে পড়ে না, হাজার বছর অপেক্ষা করার শপথ নেই। শপথ নেই জীবনানন্দ দাশের মতোই আবার শালিক পাখির বেশে অদ্বিতীয়ার বাড়ির আঙিনায় কোন এক মগডালে বসে তাকে দেখে যাবে।
এস. এস. সি পাশ করে নির্জর কলেজে যায়, মেয়েটি তখন কেবল ক্লাস নাইনে উঠেছে। নির্জরের ভালো রেজাল্টে নাকি সে অনেক খুশি হয়েছিল। প্রেমে প্রত্যাখিত হয়ে সে চেয়েছিলে অদ্বিতীয়াকে ভুলে যেতে কিন্তু ওর বান্ধবীর কথা শুনে সে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবতায় অনেক ফারাক থাকে। মেয়েটি বলে দেয় জীবনে কাউকে ভালবাসলে আপনাকেই ভাসবো। নির্জর বুঝে ফেলে মিথ্যা সান্তনা দিচ্ছে অদ্বিতীয়া।
তবুও কি এক মায়ার টানে অদ্বিতীয়াকে দেখার তীব্রতা তার বেড়ে যায়। অদ্বিতীয়া আশেপাশে শুধু নির্জরের অস্তিত্ব। তার এমন পাগলামি একদিন অপমান করে মেয়েটি। নির্জর সিদ্ধান্ত নেয় সব মায়ার বাধন ছিন্ন করার, সিন্ধান্ত নেয় আর আসবে না অদ্বিতীয়ার সামনে।
এভাবে ১৫ দিন নিদারুণ কষ্টে কেটেছে তার দিন। বাড়ি থেকেই তার দৃষ্টি ছিল অদ্বিতীয়ার প্রাইভেটে যাবার পথে। যদি এক পলক দেখতে পাই, মনের অজান্তেই হেসে ফেলে ছেলেটি।
ভালবাসার এমন শক্তি যা পুড়া মনেও হাসির সঞ্চার করতে পারে।
হঠাৎ একদিন সকালে অদ্বিতীয়ার বান্ধবী সাথে দেখা। সে উল্লাসিত হয়ে বলে অদ্বিতীয়া আপনাকে চিঠি দিয়েছে। এই কথাটি শুনে নিজের মধ্যে স্বর্গীয় সুখ অনুভব করে নির্জর।
কিছু কিছু জিনিস মানুষের মনে স্বর্গীয় সুখ দেয়, তার মধ্যে অনেক অপেক্ষার পর সত্যিকার প্রেমকে নিজের করে পাওয়া।
রাতেই অদ্বিতীয়ার বান্ধবীর বাসা থেকে চিঠিটা নিয়ে আসে নির্জর। তার সারাটি দিন কত উত্তেজনার মধ্যে কেটেছে কেবল সে জানে। অবশেষে তার হাতে পৃথিবীর সব সুখ।
সে মনে মনে উপলব্ধি করে সকল সুখ যেন তার মনে জমা হয়েছে।
জীবনে প্রথম বার প্রেমের চিঠি, তাও আবার দীর্ঘ বছরের প্রতীক্ষার ফল।
চিঠি খুলে সে পড়তে থাকে, অদ্বিতীয়া ও তাকে মনে মনে ভালবাসে। তার ভাল চাই, সুন্দর ভবিষ্যতের কামনা করে নির্জরের। কিন্তু তার পরিবার কখনও প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিবে না তাও বলে। নির্জর চিঠির ভাষা বুঝে, কিন্তু মন মনের ভাষা বুঝে না। চিঠির শেষে লেখা ছিল,
জীবনে কাউকে প্রথম চিঠি লিখলাম
এই চিঠি কাউকে দেখাবেন না
চিঠির কথা কাউকে বলবেন না।
নির্জর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে এক নিরব পথ ধরে হেঁটে যায়। আর ক্ষমা চেয়ে নেই, কারণ তোমার চিঠির কথা অনেকেই জানে।
কিন্তু আমার বুকে যে রক্তক্ষরণ তা কেউ জানে না।
নির্জর টানা তিন দিন স্বপ্নে অদ্বিতীয়াকে দেখছে। অদ্বিতীয়া স্বপ্ন এসে বলেছিল, আমাদের গল্পটাও লিখো। কিছু গল্পের শেষ নেই, রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের মতোই শেষ হয়েও হইলো না শেষ। আজও নির্জর অপেক্ষায় থাকে, আবার মহাকালের কোন এক দিনে, সে আগের মতো অদ্বিতীয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকবে।
জীবনে কিছু অপেক্ষা মধুর লাগে। যেমন:ভালবাসার মানুষকে এক পলক দেখার অপেক্ষা।

শেয়ার করুন »

আলোচিত বাংলাদেশ ডেস্ক »

মন্তব্য করুন »